সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি-নারী প্রতারণা! খুলনা রিপোর্টার্স ক্লাব চত্বরে জনরোষে লাঞ্ছিত কথিত সাংবাদিক আলমগীর কবির
খুলনা থেকে পরশ | শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নারী প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক মো. আলমগীর কবিরকে গণধোলাই দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার দুপুর প্রায় ৩টার দিকে নগরীর খুলনা রিপোর্টার্স ক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রিপোর্টার্স ক্লাবের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীর কবির দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনো “এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি”, আবার কখনো “দৈনিক বাংলার সমাচার-এর খুলনা বিভাগীয় প্রধান” পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার ভয় দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি এশিয়ান টিভির কোনো অনুমোদিত প্রতিনিধি নন।
সম্প্রতি এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগী নারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি সেবা নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবহিত করলেৃ তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় স্থানীয় জনতা আলমগীর কবিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অভিযোগের একাধিক বিষয় তিনি স্বীকার করেছেন বলে উপস্থিতদের দাবি। পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। এ ঘটনায় রিপোর্টার্স ক্লাব চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে আলমগীর কবির লিখিত মুচলেকা দেন। মুচলেকায় তিনি ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে আর যুক্ত থাকবেন না এবং ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন। জনসম্মুখেও তিনি একই ঘোষণা দেন বলে জানা গেছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার আড়ালে কেউ যেন প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও যাচাই-বাছাই জরুরি। একইসঙ্গে তারা আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধ মোকাবিলার আহ্বান জানান।


