এসপি মাহবুব আলম খানকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
অভিযোগের সময় ঢাকায় প্রশিক্ষণে ছিলেন—সরকারি নথিতে মিলেছে প্রমাণ
মোঃ আব্দুছ ছালাম,কুমিল্লা প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব আলম খান–কে জড়িয়ে একটি পুরোনো ঘটনার অভিযোগ নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযোগে উল্লেখিত সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; বরং ঢাকায় সরকারি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছিলেন।
প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকায় অবস্থিত পুলিশ স্টাফ কলেজে অনুষ্ঠিত “30th Police Financial Management Certificate Course”-এ অংশগ্রহণ করেন। অথচ অভিযোগে যে ঘটনাটির কথা বলা হচ্ছে, তার তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১৬—যা ওই প্রশিক্ষণকালীন সময়ের মধ্যেই পড়ে।
এতে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নথিপত্রে যা পাওয়া গেছে
এই প্রতিবেদকের হাতে আসা সরকারি নথিতে দেখা যায়, পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ থেকে জারি করা চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের তালিকায় মোঃ মাহবুব আলম খান-এর নাম উল্লেখ রয়েছে।
একই সঙ্গে কোর্স শেষে তাকে ছাড়পত্র (Release Certificate) প্রদান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ওই সময় তিনি ঢাকায় প্রশিক্ষণে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে অভিযোগে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের সময়রেখায় অসংগতি
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল।
কিন্তু প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত অফিসিয়াল ডকুমেন্ট অনুযায়ী—
টাইমলাইন:
১৪ আগস্ট ২০১৬: ঢাকায় পুলিশ স্টাফ কলেজে প্রশিক্ষণ শুরু
১৭ আগস্ট ২০১৬: অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনার তারিখ
১ সেপ্টেম্বর ২০১৬: প্রশিক্ষণ সমাপ্তি
এই সময়রেখা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অভিযোগের দিন তিনি ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন।
পরবর্তী কর্মজীবনের তথ্য
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (CMP)-এ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে বদলি হয়ে যোগদান করেন।
এরপর ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামেই কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের সময়ও তিনি চট্টগ্রামেই দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক রেকর্ড যাচাই করলেই জানা সম্ভব।
পদোন্নতি নিয়েও রয়েছে আলোচনা
পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, অতীতে তিনি দুইবার পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি পেলেও দীর্ঘ সময় তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ হতেন, তাহলে আগের সরকার আমলেই তাকে জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারত।
যাচাই ছাড়া প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
তাদের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা হলে তা একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।
একজন সচেতন নাগরিক বলেন,
“মানুষ গণমাধ্যমের খবরকে বিশ্বাস করে। তাই কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য যাচাই করা খুবই জরুরি।”
বর্তমানে ফেনীর পুলিশ সুপার
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মাহবুব আলম খান বর্তমানে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামনে আসা নথিপত্র ও সময়রেখা বিশ্লেষণ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের সত্যতা সহজেই যাচাই করা সম্ভব।


