পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর চারদিকে যখন টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন তৃণমূল নেতা ও টলিউড সুপারস্টার দেব
(দীপক অধিকারী)।
কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ
রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর এই প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ খুললেন তিনি।
বিজয়ী দল বিজেপি-কে অভিনন্দন জানিয়ে দেব লিখেছেন, “জনগণের রায় শিরোধার্য। আশা করি নতুন সরকার পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, শান্তি এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেবে।” তবে কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। টলিউডের এই প্রভাবশালী অভিনেতা আঙুল তুলেছেন চলচ্চিত্র শিল্পের সংকীর্ণ রাজনীতির দিকে।
টলিউডে ‘ব্যান’ সংস্কৃতির অবসান চান দেব:
একজন শিল্পী হিসেবে দেবের স্পষ্ট দাবি—শিল্পে বিভাজন বা নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি। তিনি মনে করিয়ে দেন, মিঠুন চক্রবর্তীর সাথে তার সিনেমা ‘প্রজাপতি’ যখন রাজনৈতিক কারণে নন্দনে আটকে দেওয়া হয়েছিল, তখনও তিনি শিল্পের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। দেবের কথায়, “রুদ্রনীল, রূপা গাঙ্গুলী বা অনির্বাণরা যখন তথাকথিত ‘ব্যান’ ছিলেন, আমিই একমাত্র তাদের নিয়ে কাজ করেছি। কারণ আমি রাজনীতির আগে একজন অভিনেতা।”
দলবদল গুঞ্জন ও রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত?
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে দেব কড়া ভাষায় জানান, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে রাজনীতিতে এসেছিলেন। তার জীবিকা রাজনীতির ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি বলেন, “রাজনীতি না করলে আমার দিন চলবে না—এ রকম যারা ভাবছেন, তারা ভুল। আমি তো রাজনীতি করতেই চাইনি।”
এছাড়া ঘাটালের মানুষের প্রাণের দাবি ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নতুন সরকারের কাছে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেবের এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, দলের পরাজয় হলেও তিনি মানুষের পাশে থেকে এবং শিল্পের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন থাকতে চান।
নেতৃত্বের অহংকার নয়, বরং একজন সত্যিকারের শিল্পী হিসেবে দেবের এই ‘অকপট’ স্বীকারোক্তি এখন টলিউড থেকে রাজনীতি—সব মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


