রাস্তার সরকারী গাছ কাটার সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক কে বি এন পি নেতার হুমকি।
মোঃ তারিকুল ইসলাম তুহিন,জেলা প্রতিনিধি,মাগুরাঃ
মাগুরার মহম্মদপুরের রাজাপুর পূর্বপাড়ায় সরকারি রাস্তার পাশের মেহগনি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে—আক্কাস মিয়ার ছেলে শিমুল এবং রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফসার মোল্লা সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করেছেন।
৬ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, সদ্য কাটা মেহগনি গাছের গুঁড়ি তোলা হচ্ছে দুইটি নসিমনে। কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা জানান, শিমুল গাছগুলো বিক্রি করেছেন।
কিন্তু এখানেই বাধে বিপত্তি। কিছুক্ষণ পর শিমুলের পরিবারের লোকজন এসে সাংবাদিকদের ছবি ও ফুটেজ সংগ্রহে বাধা দেয়। মোবাইল থেকে ছবি–ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু লোক জড়ো হয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে ফেলে, সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে।
হঠাৎ মোটর সাইকেল যোগে এসে উপস্থিত হন আফসার মোল্লা। কথা বলতে বলতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন, ব্যবহৃত ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেন। দাবি—ফুটেজ না মুছলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হবে।
ঘটনার পর রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শ্যামল মৃধা জানান—গাছ যদি সরকারি সম্পত্তি হয় এবং দলের কেউ জড়িত থাকে, কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনও ইতোমধ্যে নড়েচড়ে বসেছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও বনি আমিন বলেন—অভিযোগ পেয়ে তহসিলদারকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি তসরুপের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তহসিলদার কামরুল ইসলাম জানান—প্রাথমিকভাবে জায়গাটি সরকারি রাস্তার বলে মনে হচ্ছে। সার্ভেয়ারের মাপের পর নিশ্চিত হলেই মামলা করা হবে। এরইমধ্যে প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে রাজাপুর ক্যাম্পের পুলিশ একটি নসিমনভর্তি কাঠ জব্দ করেছে।
সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ, সাংবাদিকদের হুমকি—সব মিলিয়ে রাজাপুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য প্রকাশের অপেক্ষায় এলাকাবাসী।


